ঈদগাহে যখন আনন্দের কোলাহল, গোরস্থানে তখন মাটির নিচে ঘুমিয়ে আমার ‘পৃথিবী’

সংবাদ ২৪ ঘন্টা প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ০৬:০১ এএম ৩৮ বার পঠিত
ঈদগাহে যখন আনন্দের কোলাহল, গোরস্থানে তখন মাটির নিচে ঘুমিয়ে আমার ‘পৃথিবী’

ঈদগাহে যখন আনন্দের কোলাহল, গোরস্থানে তখন মাটির নিচে ঘুমিয়ে আমার ‘পৃথিবী’

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
২৪ মে ২০২৬
ঈদ মানেই মিলনমেলা, ঈদ মানেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠার লগ্ন। কিন্তু এই আনন্দ সবার জন্য সমান বার্তা নিয়ে আসে না। উৎসবের এই আলো ঝলমলে দিনেও বহু মানুষের বুকে বেজে ওঠে এক নীরব কান্নার সুর। বিশেষ করে, যাঁদের বাবা, মা, ভাই, বোন কিংবা কোনো প্রিয় আত্মীয়া আজ আর এই চেনা পৃথিবীতে নেই; যাঁদের চিরতরে রেখে আসা হয়েছে অন্ধকার গোরস্থানে—তাঁদের জন্য ঈদ মানে আনন্দের চেয়েও অনেক বেশি স্মৃতিরোমন্থন আর হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক অপূরণীয় শূন্যতা। একটি মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত বাঙালি পরিবারে ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয় অনেক আগে থেকেই। কার কী পছন্দ, কার জন্য কী পোশাক কেনা হবে—এসব নিয়ে চলে অন্তহীন জল্পনা-কল্পনা। কিন্তু ঘর থেকে যখন কোনো প্রিয় মানুষ বিদায় নেন, তখন ঈদের সেই চেনা কোলাহলে এক নিস্তব্ধতা নেমে আসে। ঈদের সকালে নতুন জামা পরে যখন সবাই আনন্দ ভাগাভাগি করে, তখন মন আনচান করে ওঠে গোরস্থানের ওই শান্ত মাটির নিচে শুয়ে থাকা প্রিয় মানুষটির জন্য। মনে পড়ে যায়—বিগত ঈদেও যিনি পরম মমতায় বুকে টেনে নিয়েছিলেন, আজ তিনি সব কোলাহলের ঊর্ধ্বে, এক অনন্ত নীরবতায় শায়িত। ঈদের নামাজ শেষ করে অধিকাংশ মানুষের পা সবার আগে ছুটে যায় গোরস্থানের দিকে। সেখানে গিয়ে মাটির তৈরি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে যখন সন্তান তাঁর বাবার জন্য, বাবা তাঁর সন্তানের জন্য, কিংবা ভাই তাঁর বোনের জন্য হাত তোলেন—তখন চারপাশের বাতাস এক ভারী দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে ওঠে। চোখের জলে ভেজা মাটির ওপর দাঁড়িয়ে তখন মনে হয়, এই পৃথিবীর সব উৎসব কত ক্ষণস্থায়ী, আর মানুষের চলে যাওয়া কত নির্মম বাস্তব। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ‘ঈদ মোবারক’ বলার যে আকুলতা, তা কেবল অনুভবের বিষয়, ভাষায় প্রকাশের নয়। তবে এই শূন্যতা ও বিষাদ কেবল আমাদের কাঁদানোর জন্য নয়, এটি আমাদের জীবনের এক পরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়। আজ যাঁরা গোরস্থানে শুয়ে আছেন, তাঁরাও একদিন আমাদের মতোই জীবিত ছিলেন, উৎসবের আলোয় রঙিন হতেন। সময়ের নিয়মে আজ তাঁরা মাটির ঘরবাসী, আর আমরাও একদিন একই পথের যাত্রী হব। তাই প্রিয়জনদের হারিয়ে ফেলার এই বেদনা আমাদের শেখায় জীবনের অহংকার ভুলে বিনয়ী হতে, মানুষের প্রতি আরও বেশি সহনশীল ও মায়াময় হতে। সম্পাদকীয় কলামের মাধ্যমে আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই, গোরস্থানে রেখে আসা প্রিয়জনদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব কেবল ঈদের দিনে অশ্রুবিসর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করা, তাঁদের রেখে যাওয়া ভালো কাজগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা এবং তাঁদের আদর্শকে জীবনে ধারণ করাই হলো তাঁদের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা। বিশেষ করে, প্রয়াত পিতামাতা বা আত্মীয়দের স্মরণে যদি এই ঈদের দিনে কোনো এতিম, অসহায় বা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানো যায়, তবেই তাঁদের আত্মা শান্তি পাবে এবং ঈদের প্রকৃত শিক্ষা সার্থক হবে। উৎসবের এই ক্ষণে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে স্মরণ করছি গোরস্থানে শুয়ে থাকা আমাদের সকল আপনজনকে। মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের সকল প্রয়াত বাবা, মা, ভাই, বোন ও আত্মীয়-স্বজনকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন। আর যাঁরা এই ঈদে স্বজন হারানোর তীব্র বেদনা বুকে চেপে আছেন, তাঁদের এই শূন্যতা সহ্য করার এবং সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার শক্তি দিন।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।