টাকা গেছে ‘ডিপ ফ্রিজে’, বাজার জ্বলছে আগুনে: আমরা যাব কোথায়?

সংবাদ ২৪ ঘন্টা প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ০২:১৭ পিএম ৩৮ বার পঠিত
টাকা গেছে ‘ডিপ ফ্রিজে’, বাজার জ্বলছে আগুনে: আমরা যাব কোথায়?

টাকা গেছে ‘ডিপ ফ্রিজে’, বাজার জ্বলছে আগুনে: আমরা যাব কোথায়?

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
২৫ মে ২০২৬
নিত্যপণ্যের বাজারে গেলে মনে হয় পকেটের টাকাগুলো কর্পূরের মতো উড়ে যাচ্ছে, অথচ আয়ের খাতায় জমা হচ্ছে কেবলই দীর্ঘশ্বাস। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সামগ্রিক সংকট এখন আর কোনো গোপন তত্ত্ব নয়, বরং তা সাধারণ মানুষের ঘরের ডাল-ভাতের থালায় এসে হানা দিয়েছে। একদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে টানাপোড়েন, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির লাগামহীন দৌড়—সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতি যেন এক অদ্ভুত গোলকধাঁধায় আটকে গেছে। পরিসংখ্যান যা-ই বলুক না কেন, বাস্তবের বাজার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে। চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে কাঁচামরিচ পর্যন্ত প্রতিটি পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। মধ্যবিত্তরা মুখ বুজে কষ্ট সহ্য করছেন, আর নিম্নবিত্তদের অবস্থা ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক কাপের মতো—প্রতিদিনই একটু একটু করে দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে। অথচ এই সংকট উত্তরণে যেসব নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল, সেখানে এক ধরনের ধীরগতি ও সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট। অর্থ সংকটের পেছনে কেবল বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে দায়ী করে হাত ধুয়ে ফেলার উপায় এখন আর নেই। ভেতরের ক্ষতগুলোও কম বড় নয়। ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম, খেলাপি ঋণের পাহাড় আর অর্থ পাচারের মতো নীরব ঘাতকগুলো আমাদের অর্থনীতির রক্ত চুষে খাচ্ছে। যখন ডলার সংকটের কারণে জরুরি কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হয়, তখন বুঝতে হবে রোগটা ওপরের চামড়ায় নয়, হাড্ডির ভেতরে ঢুকে গেছে। Editorial Note: একটি দেশের অর্থনীতি তখনই সচল থাকে যখন সাধারণ মানুষের পকেটে টাকা থাকে এবং বাজারে তার ক্রয়ক্ষমতা বজায় থাকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক উল্টো। টাকা বাজারে ঘুরছে না, বরং কোথাও একটা ‘ডিপ ফ্রিজে’ আটকা পড়ে আছে, যার খেসারত দিচ্ছে আমজনতা। আমরা মনে করি, শুধু আশ্বাস বা জোড়াতালির বাজেট দিয়ে এই গভীর সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। সরকারকে এখন কঠোর ও অপ্রিয় কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রথমত, বাজার সিন্ডিকেটের টুঁটি চেপে ধরতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফিরিয়ে এনে খেলাপি ঋণ আদায়ে শূন্য সহনশীলতা দেখাতে হবে। তৃতীয়ত, বিলাসিতা পরিহার করে উৎপাদনমুখী খাতে সরকারি ব্যয় বাড়াতে হবে। শীতল ঘরে বসে অর্থনীতির চাকা ঘোরানোর অলীক স্বপ্ন দেখার সময় পার হয়ে গেছে। যদি এখনই কার্যকর এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে এই ‘আগুনে বাজার’ একদিন পুরো সামাজিক স্থিতিশীলতাকেই পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে পারে। নীতিনির্ধারকদের ঘুম ভাঙবে কি?

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।